আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং

‘বলাৎকারের প্রতিবাদ করায় খুন করা হয় মাদ্রাসা ছাত্র সালমানকে’

বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের হত্যার কারণ জানাল পুলিশ

 প্রকাশিত : ২০১৬-০১-২৭ ১৯:৩১:৩২

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৬: ‘নিজেকে (সালমান) বলাৎকারের শিকার হওয়া থেকে এবং নিজের সহপাঠী ও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকে মাদ্রাসার কতিপয় শিক্ষক কর্তৃক বলাৎকারের শিকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিবাদ করায় খুন করা হয়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরস্থ জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসার ফজিলত ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান আহমদ (১৭)’কে। হত্যার একদিন পর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃ শিব্বির আহমদ ও নিহতের সহপাঠী মহসিন উদ্দিন নাঈম’র বাসা রক্তমাখা সোফাসেট ও নিহতের ব্যবহৃত জুতা জোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।’

বিশ্বনাথে কর্মরত সাংবাদিকদের ‘মাদ্রাসা ছাত্র সালমান হত্যা’র কারণ সম্পর্কে থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবদুল হাই এসব তথ্য জানান।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উৎঘাটন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন- খুব শীঘ্রই হত্যাকাণ্ডের পুরোরহৎস্য জনসম্মুকে উন্মোচন করা হবে। প্রিন্সিপাল মাওঃ শিব্বির আহমদ ও তাঁর (শিব্বির) সৎভাই মহসিন উদ্দিন নাঈম নিহত সালমানকে দিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আরেক ভাইয়ের (ফখরুল) একাউন্ট থেকে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করিয়ে আত্মসাৎ করিয়েছেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রদেরকে বলাৎকার করা ও ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে রয়েছে। হত্যাকান্ডে ৩/৫ জন খুনী জড়িত থাকতে পারে এবং শাবল ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে সালমান হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। আর মোবাইলের কললিস্ট অনুযায়ী অন্যান্য খুনীদের সন্ধান বের করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন থানা পুলিশ। সালমানের সাথে থাকা প্রিন্সিপালের সৎবোনের প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারটি তদন্তের মধ্যে রয়েছে বলেও জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে বলাৎকার করার সত্যাতা থানা পুলিশের কাছে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওঃ বশির আহমদ স্বীকার করেছেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েন থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবদুল হাই। তিনি বলেন, তদন্তে আরো কিছু স্পর্শকাতর বিষয় পাওয়া গেছে যা অধিকতর তদন্তের জন্য বলা যাচ্ছেনা। গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আরোও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরোরহৎস্য সবার সামনে পরিস্কার হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, সালমান আহমদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগাঁও গ্রামের বাকপ্রতিবন্দি ছোটন মিয়া ও কুতুবি বেগম দম্পত্তির সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সে মাদ্রাসার বোডিং-এ থেকে লেখাপড়া করে আসছিল। ৩০ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার নতুন বাজার এলাকার তফজ্জুল আলী কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বাসার মধ্যবর্তী সড়কে সালমান আহমদের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর সালমানের মা বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং ২০ (তাং ৩১/১২/২০১৫ইং)। মামলার লিখিত অভিযোগে বাদিনী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ধারণা করছেন মরহুম মাওলানা আশরাফ আলীর পুত্র ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদের ছোট ভাই মহসিন উদ্দিন নাঈম অজ্ঞাতনামা দৃস্কৃতকারীদের যোগসাজশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর (বাদিনী) পুত্র সালমানকে হত্যা করেছে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/পিও/টিআই-আর

আপনার মন্তব্য

Developed By -    IT Lab Solutions Ltd.

Helpline - +88 018 4248 5222