আজ রবিবার, ২০ মে ২০১৮ ইং

দাঁত সাদা নাকি হলুদ–বাদামি?

 প্রকাশিত : ২০১৭-০৬-২১ ১১:২৩:৫০

    আপডেট: ২০১৭-০৬-২১ ১১:৩৪:৪৩

লাইফ স্টাইল ডেস্ক : বুধবার, ২১ জুন ২০১৭: মুখের সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে আমাদের দাঁতের ওপর। দাঁতের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হলে তা অবশ্যই আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যেও প্রভাব ফেলে। নিজেকে সুন্দর করে তুলে ধরতে ঝকঝকে দাঁতের মুক্তোঝরা হাসিই যথেষ্ট। দাঁতের রঙের পরিবর্তন দেখতে খারাপ লাগে। অনেকে তখন হাসতেও সংকোচবোধ করেন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বুঝলে পরে বিপদে পড়তে হয়-এই কথা সবাই জানেন। দাঁত সুস্থ, সবল, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে প্রত্যেকের কিছু করণীয় আছে।

দাঁতের স্বাভাবিক রং কী?
দাঁতের স্বাভাবিক রঙের বিষয়ে একটি কথা সবারই জানা প্রয়োজন। শরীরের ত্বকের রঙের সঙ্গে দাঁতের রঙের সম্পর্ক আছে। যে ত্বক উজ্জ্বল, তাদের দাঁতের সর্ববহিরাবরণ, অর্থাৎ এনামেলের রং হলুটে সাদা। যাদের গায়ের রং চাপা, তাদের দাঁত সাদা হয়ে থাকে। এ জন্য ইউরোপীয়দের দাঁতের রঙে হলুদ ভাব দেখা যায়। আবার কালো রঙের ত্বক যাদের, তাদের দাঁতের রং হয় ধবধবে সাদা। মূলত জিনগত কারণেই দাঁতের রঙের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

কী কারণে দাঁতের স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন?
* দাঁতের রঙের পরিবর্তন বাহ্যিক ময়লা জমেও যেমন হতে পারে, আবার দাঁতের অভ্যন্তরীণ কারণেও হতে পারে। যেমন চা, কফি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, অ্যালকোহল সেবন করলে, আবার কিছু ফল বা শাকসবজি, যেমন আপেল বেদানা লালশাক খেলে হতে পারে।
* তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন কিংবা পান, সুপারি, জর্দা, গুল, সাদাপাতা খেলে।
* দাঁতের যত্ন না নিলে কিংবা দাঁত সঠিক নিয়মে ব্রাশ বা ফ্লশিং না করলে।
* পরোফাইরিয়া, ছোটবেলায় সংঘটিত মারাত্মক ধরনের জন্ডিস, পেপটিক আলসার বা বিভিন্ন বিপাকজনিত রোগের কারণে দাঁতের রং পরিবর্তন হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রমণজনিত কোনো রোগ থেকে গর্ভে থাকা শিশুর এনামেল গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, সে কারণে পরিবর্তন হতে পারে দাঁতের রং। রেডিও বা কেমোথেরাপির কারণেও রঙে বদলে যেতে পারে।
* অন্তঃসত্ত্বা মা যদি টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন-জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করেন, তবে শিশুর দাঁতগুলো বাদামি কিংবা কিছুটা হলুদ ভাব হয়।
* আট বছর বয়সের আগে টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন-জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনও হলদেটে দাঁতের কারণ।
* অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কারণে ঘন ঘন ক্লোরোহেক্সিডিন মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের কারণে দাঁতের রং পরিবর্তন হতে পারে।
* বংশগত কারণে দেখা যায় অনেকের দাঁতের এনামেলের পুরুত্ব স্বাভাবিক পুরুত্বের চেয়ে কম বা বেশি, যা দাঁতের রং পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
* পরিবেশগত কারণ যেমন ফ্লোরাইড, আর্সেনিক বা আয়রনযুক্ত পানি পান কিংবা অতিরিক্ত ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে।
* দাঁতে আঘাত পেলে এবং তার যথাযথ চিকিৎসা না পেলে একটা সময় পরে দাঁতের দন্তমজ্জা নষ্ট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে দাঁতের রং পরিবর্তন হয়ে যায়।
* অনেক সময় রুট ক্যানেল চিকিৎসা সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে দাঁতের রং পরিবর্তন হয়ে যায়।
* কিছু ডেন্টাল উপকরণ, যেমন সিলভার সালফাইড-যুক্ত আম্যালগাম ফিলিংয়ের ফলে দাঁতে ধূসর কালো দাগ পড়তে পারে।
* বেশি বয়সে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যায় এবং হলুদ বর্ণের ডেন্টিন বের হয়ে আসে, ফলে দাঁত হলুদ দেখাতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়
নিয়মিত ও সঠিকভাবে দাঁত ও মুখের যত্ন নিলে এ ধরনের যেকোনো সমস্যা কম হয়। সমস্যার কারণ অনুযায়ী কিছু প্রতিকারের ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
* গর্ভাবস্থায় যেসব ওষুধ দাঁতের কিংবা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা সেবন না করা।
* সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নেওয়া। ভালো টুথপেস্ট ও টুথব্রাশ দিয়ে সকালে খাবারের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে দুইবার সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা।
* দাঁত ও মুখের জন্য ক্ষতিকর বস্তু, যেমন সিগারেট, পান, সুপারি, জর্দা, কোল্ড ড্রিঙ্কস, অ্যালকোহল ইত্যাদি গ্রহণ না করা।
* পর্যাপ্ত পানি পান, প্রতিনিয়ত ফল খেলে দাঁতে বাহ্যিক ময়লা জমে দাঁত হলুদ হতে পারে না।
* চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবালে দাঁত সাধারণত হলুদ হয় না।
সবুজ চায়ে (গ্রিন টি) প্রচুর ফ্লোরাইড রয়েছে, যা অ্যান্টি-অ্যাসিটিক হওয়ায় দাঁতে হলুদ দাগ পড়তে দেয় না।
অ্যাসিডিক খাবার, বিশেষ করে যাদের পিএইচ ৫.৫-এর নিচে, সেই খাবার কম খেলে দাঁত হলদে হয় না বা খেলেও দ্রুত দাঁত পরিষ্কার করে ফেলা উচিত। এসব তরলজাতীয় খাবার স্ট্র দিয়ে গ্রহণ করা যেতে পারে, যেন দাঁতের সংস্পর্শে না আসে।
* দাঁতের পরিচ্ছন্নতা ও রং সুরক্ষায় ফ্লসও বেশ উপকারে দেয়। দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যের কণা দূর করতে নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করুন। বিশেষত সারা দিন খাওয়াদাওয়ার পর প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফ্লস ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখা যায়।
এ ছাড়া কিছু ভেষজ উপাদান দাঁত সাদা করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। যেমন লেবু, নিম, তুলসী, কমলার খোসা। পরিমিত পরিমাণে বেকিং সোডা বা হাইড্রোজ়েন পারক্সাইড দিয়ে কুলিকুচি করেও উপকার হয়।

দাঁত সাদা করার চিকিৎসা
সিগারেট কিংবা পান বা অন্যান্য বস্তু গ্রহণের ফলে দাঁতের রং পরিবর্তিত হয়ে থাকলে একজন দন্তচিকিৎসকের কাছে গিয়ে স্কেলিং ও পলিশ করে দাঁতগুলো আবার ঝকঝকে করে নিতে পারেন।
ওষুধজনিত কারণে দাঁতের রং পরিবর্তিত হয়ে থাকলে দাঁতে ভিনিয়ার কিংবা ক্রাউন করে সুন্দর ঝকঝকে করা যায়।
দন্তমজ্জা নষ্ট হওয়া দাঁত কিংবা আঘাতজনিত কারণে দন্তমজ্জা নষ্ট হয়েছে ও পরে রুট ক্যানেল করা হয়েছে কিংবা রুট ক্যানেলের ফলে দাঁতের রং পরিবর্তন হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ‘টুথ ব্লিচিং’-এর মাধ্যমে দাঁত সাদা করা যায়।
যদি দাঁতের ব্লিচিং পদ্ধতি সম্ভব না হয়, তবে লাইট কিউর ফিলিং বা কালার ম্যাচিং ফিলিংয়ের মাধ্যমেও দাঁত সাদা করা যায়। কালার ম্যাচিং ফিলিং ডেন্টাল সায়েন্সে দাঁত সাদা করার সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা। এটা আগে উন্নত বিশ্বে থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে দাঁত সাদা করা যাচ্ছে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/বিএম

আপনার মন্তব্য

Developed By    IT Lab Solutions Ltd.

Helpline - +88 018 4248 5222