আজ রবিবার, ২০ মে ২০১৮ ইং

আজ বিশ্ব ডাক দিবস : প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সুদিন ফেরার আশা

 প্রকাশিত : ২০১৭-১০-০৯ ১৪:৫১:৫৮

মীর্জা সোহেল : সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৭: আধুনিক প্রযুক্তিবান্ধব সেবা নিয়ে ডাক বিভাগ এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেট যুগে চিঠির প্রচলন কমে গেলেও চিঠি চালাচালিতে ডাক বিভাগে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সেই সাথে  ডাক বিভাগে যুক্ত হয়েছে আধুনিক নানা কার্যক্রম। ফলে একসময়ের যোগাযোগের জনপ্রিয় এ প্রতিষ্ঠানটি আবার সুদিন ফেরার আশায় আছে। ডাক বিভাগকে সেবার মাধ্যমে জনগণের আরো কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার গ্রহণ করেছে বিশেষ পরিকল্পনা, যা বাস্তবায়ন হলে ডাক বিভাগ ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। বিশ্ব ডাক দিবসকে সামনে রেখে এমন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করলেন ডেপুটি পোষ্টমাষ্টার জেনারেল মো. উমর ফারুক । 

তিনি জানান, কার্যক্রমকে প্রযুক্তিবান্ধব করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্রযুক্তিসুবিধা চালু করেছে ডাক বিভাগ। ডাক বিভাগের মূল সেবা রয়েছে ১১টি- এর সঙ্গে এজেন্সি সেবাও রয়েছে অনেক। মূল সেবা হিসেবে সাধারণ চিঠিপত্র, রেজিষ্টার্ড চিঠিপত্র, জিইপি, ইএমএস, সাধারণ মানি অর্ডার, ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, পার্সেল সার্ভিস, ভিপিপি, ভিপিএল ও ডাক টিকেট বিক্রয়। এছাড়াও এজেন্সি সার্ভিস হিসেবে ডাক জীবন বীমা, সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বিক্রয় ও ভাঙ্গানো, প্রাইজ বন্ড বিক্রয় ও ভাঙ্গানো, সরকারের সকল প্রকার টিকেট মুদ্রণ ও বিতরণ সেবা। 

ডাকঘরে প্রযুক্তিসেবা: ডাকঘরের নানা কাজে এখন যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিসেবা। বিশ্বস্ত মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কাজ এখন দ্রæততার সঙ্গে করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের কাগজ-কলমের কাজগুলো সহজ করতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। ডাক বিভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর কাজটাকে দ্রæত ও সহজ করেছে। সারা দেশের জেলা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোয় রয়েছে এসব প্রযুক্তিসেবা।

কম্পিউটারের মাধ্যমে যানবাহনের কর: অনেক দিন ধরেই ডাকঘরের মাধ্যমে যানবাহনের কর প্রদান করতে হতো।দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। করদাতার দুর্ভোগ দূর করতেই ডাক বিভাগ চালু করেছে অনলাইনে যানবাহনের কর পরিশোধের ব্যবস্থা। দেশের বর্তমানে মোটরযান কর আদায়ে কম্পিউটারভিত্তিক লেনদেন চালু হয়েছে । এর ফলে ডাকঘরের কাউন্টারে যানবাহন কর জমা দেওয়ার জন্য গ্রাহককে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। ওই সময়টি কমে এখন পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কম্পিউটারে তৈরি হওয়া টাকার রসিদ দেওয়াসহ লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি। টাকা জমা দেওয়ার পর মুঠোফোন থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠাতে পারেন তিনি।এরপর ফিরতি এসএমএসে গ্রাহক জানতে পারবেন টাকা সরকারি খাতে জমা হয়েছে কিনা। এ অনলাইনে পদ্ধতি চালুর ফলে গত অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হয়েছে বলে জানান মোবাশেরউর রহমান। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে এরকম বিভিন্ন সেবার তথ্য রয়েছে।

ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার: ডাকঘরের নানা কার্যক্রমের মধ্যে মানি অর্ডার অন্যতম। প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠাতে কিংবা টাকা পেতে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই প্রক্রিয়া। পুরোনো দিনের মানি অর্ডার কার্যক্রমকে সহজ করতে চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক বা মোবাইল মানি অর্ডার। প্রচলিত মানি অর্ডার সেবার পাশাপাশি বর্তমানে দেশের সব জেলা সদরের প্রধান ডাকঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাব পোস্ট অফিস ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ৬০৩টি ডাকঘরে চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস)। মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এসব অফিসে টাকা পাওয়া যাবে। চলতি বছরের মধ্যেই এ কার্যক্রম আরও প্রায় এক হাজার ৬০০ ডাকঘরে সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পরিচালক (পরিকল্পনা) আবদুল্লাহ আল মাহবুবুর রশীদ। এ কার্যক্রমটি ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ, সার্ভারকক্ষ ও সংযোগ স্থাপনের কাজগুলো প্রায় শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের দ্রুততার সঙ্গে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দ্রæততম সময়ে দেশের সব ডাকঘরে ইএমটিএস সুবিধা চালু করা হবে বলে জানান তিনি। 

ডাকঘরের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম: ডাকঘরের সব কার্যক্রমকে কম্পিউটার ও সফটওয়্যারভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘প্রসেস অটোমেশন অব পোস্টাল ডিপার্টমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৭১টি ডাকঘর ও ১৩টি মেইল অ্যান্ড সর্টিং অফিসকে স্বয়ংক্রিয় করার কার্যক্রম চলছে বলে জানান মোবাশেরউর রহমান। তিনি জানান, ইতিমধ্যে একটি ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ কার্যক্রম চালু হবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডাকঘরের কাউন্টার সেবাসহ সব কাজ কম্পিউটারভিত্তিক হবে।ডাকে পাঠানো দ্রব্যের হদিস জানাও (ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং) সম্ভব হবে খুব সহজে। এ প্রকল্পের আওতায় ধীরে ধীরে সব বিভাগীয় অফিস ও প্রশাসনিক অফিস স্বয়ংক্রিয়করণের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান মহাপরিচালক।

পোস্টাল ক্যাশ কার্ড: ডাক বিভাগের সব সেবার লেনদেন কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করার জন্য চালু হয়েছে পোস্টাল ক্যাশ কার্ড সুবিধা। এ কার্যক্রম চালুর ফলে ডাক বিভাগের মাধ্যমে লেনদেন কার্যক্রমটি ইলেকট্রনিক কার্ডনির্ভর হয়েছে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি অর্ডার : ডাক বিভাগের ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের টাকা স্থানান্তর কার্যক্রম চলছে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ডাক বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাহকদের হাতে সহজে পৌঁছে দিচ্ছে। এ কার্যক্রমের ফলে ডাক বিভাগের নিজস্ব আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি উপজেলা পর্যায়ের গ্রাহকেরা সহজে সেবাটি পাচ্ছেন, অন্যদিকে বৈধ পথে আসা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ অবদান রাখছে।  

গ্রামীণ পোস্ট অফিসে ই-কেন্দ্র: দেশের সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ গ্রামে থাকে। এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে ইন্টারনেট সেবা ও অন্যান্য প্রযুক্তির সুফল পৌঁছানোর জন্য সিলেটের ডাকঘরকে পোস্ট অফিস ই-সেন্টার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি গ্রামীণ শাখা ডাকঘরে ল্যাপটপ, ফটোপ্রিন্টার, মোবাইল ফোন, স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা, ওয়েবক্যাম ইত্যাদি ইন্টারনেট সুবিধাসহ রয়েছে। এসবের পাশাপাশি প্রযুক্তি-সম্পর্কিত জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গ্রামীণ ডাকঘরগুলোয় সহজ সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডাকঘরের পোস্টমাস্টারদের বিশেষ সিমকার্ড ও মোবাইল ফোনসেট দেওয়া হয়েছে। এতে করে পোস্টমাস্টাররা বাণিজ্যিকভাবে কলসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার সেবাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে এই মোবাইল ফোনসেটগুলো কাজে লাগানো হবে বলে জানা গেছে। 

যেমন চলছে, সিলেটের প্রধান ডাকঘর:
অপ্রতুল জনবল নিয়ে চলছে সিলেট প্রধান ডাকঘর।  সিলেটের পোষ্ট অফিস পরিদর্শ আফাজ উদ্দিন উত্তরপূর্বকে জানান-  প্রধান ডাক ঘরের আওতাধীন সিলেটে রয়েছে ২১ টি উপজেলা পোস্ট অফিস, ৫৮ টি সাব পোষ্ট অফিস, ৭ টি অবিভাগীয় সাব অফিস, এবং ৩৩৪ টি ব্রাঞ্চ অফিস। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট মহানগরীতে ১৭ টি সাব অফিস ও ১৩ টি ব্রাঞ্চ অফিস। এ প্রধান ডাকঘরে কর্মরত আছেন প্রায়  ১শ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 

সিলেটের সহকারী পোষ্টমাষ্টার  জেনারেল নুরুল হক বলেন- প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ডাক বিভাগকে করা হয়েছে আধুনিকায়ন। সেই সাথে সেবা কার্যক্রমে ও নেয়া হয়েছে বাড়তি নজরধারী। নগরীতে থাকা ৫৪ টি লেটার বক্স দিনে দুবার খোলা হয়, যার মাধ্যমে ফার্ষ্ট মেইল ও সেকেন্ড মেইলে ডাক পাঠিয়ে থাকি।  যেখানে আগে সিলেট থেকে সুরমা মেইল ট্রেনের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হতো ঢাকা, চট্টগ্রামে সেখানে আজ সুরমা মেইলের অপেক্ষা না করে উদয়ন/উপবন  লোকাল ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিদিনই পাঠানো হচ্ছে সে স্থান গুলোতে। ফলে ডাক প্রেরণের ২ দিনের মধ্যে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রাপকের কাছে।
জনমনে ডাকবিভাগের সেবার মান নিয়ে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে, এ অবস্থার জন্য লোকবল সংকটকে দায়ী করছেন ডাক বিভাগের দায়িত্বশীল  কর্মকর্তারা। গ্রাহকরা বলছেন, ভোগান্তি কমিয়ে সেবার মান বাড়ানো হলে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ডাকঘরগুলোই হয়ে উঠতে পারে সাধারণ মানুষের প্রিয় সেবা প্রতিষ্ঠান।   

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমএস/এমএস

আপনার মন্তব্য

Sports update - Sports Action

Developed By    IT Lab Solutions Ltd.

Helpline - +88 018 4248 5222