আজ রবিবার, ২০ মে ২০১৮ ইং

কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চান জাফর ইকবাল

 প্রকাশিত : ২০১৮-০৪-০৯ ১৮:৩৬:০২

শাবি প্রতিনিধি : সোমবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৮: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। কোটা প্রথার সুযোগে মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার সুযোগ তৈরী হয়েছে, কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকারলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। আমি শুধু জানতাম যে কোটা নিয়ে একটা আন্দোলন হচ্ছে। আমি বিভিন্নজনকে জিজ্ঞেস করেছি যে সংখ্যাটা কত। যেহেতু কানে শোনা, আমার কাছে মনে হয়েছে কোটার অনুপাত মোটেই ঠিক নাই। এত বেশি কোটা থাকে এটা কি করে সম্ভব। আমার সবচেয়ে দু:খ লাগছে মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কোটা নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা এত ভালোবাসি, কিন্তু এ বিষয়টা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না, এটা নিয়ে যেন কোনভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান না হয়। কোটা যদি ভিজিবল একটা জায়গায় থাকতো, তবে এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের সুযোগ তৈরী হতো না।

ড. জাফল ইকবাল বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে অসম্মান না হয়, তাই কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই সংস্কার হওয়া উচিৎ। এটা বলার সুযোগ তৈরী হয়েছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের বাচ্চাকাচ্চাদের জন্যে আমরা মেধাবীরা চাকুরির সুযোগ পাচ্ছিনা। কোটার জন্যে আমরা তাদের অসম্মানের সুযোগ দিতে পারিনা।

শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের হামলায় তিনি বলেন, যেকোন মানুষের উপর পুলিশের হামলা গ্রহণযোগ্য না, ছাত্রদের উপর এ হামলা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। এরকম  পর্যায়ে আসার আগেই বিষয়টা এড্রেস করা উচিৎ ছিল। এটা যেন বিস্ফোরণের পর্যায়ে  না যায়। এ হামলার ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত। ছাত্রদের গায়ে হাত দেয়া, খুবই খারাপ।

আমাদের দেশে পুলিশ আগে এমন করতো না, কিন্তু এখন কি হয়েছে বুঝতে পারতেছি না, সব ক্যাম্পাসেই দেখি পুলিশ মোতায়েন। এমনটি আগে ছিলনা কারণ পুলিশ ঢুকতে আগে ক্যাম্পাসে প্রক্টরের অনুমতি লাগতো। পৃথিবীর অনেক দেশেই কোটা রয়েছে, কিন্তু সেটা যুক্তিপূর্ণ, সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, অবশ্যই এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, যতটুকু শুনলাম মেধাবীর চেয়ে কোটার সংখ্যার বেশি, ৫৬ভাগ। এটা কেমন কথা। এটা মোটেই যুক্তিপূর্ণ না, কোনভাবেই না। আমি কেনভাবেই কোটার পক্ষে না, আমি আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়েও কোটার বিপক্ষেও ছিলাম। শিক্ষকদের সন্তানরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কোটা নিবে। একটা কোটা একবার ব্যবহার করা যায়, ৪/৫বার ব্যবহার কোনভাবেই ফেয়ার না। তিনি এ অবস্থার অবসান দাবি করেন। ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক, কারণ তারা কোটার সংস্কার চাইছে, বাতিল না, পৃথিবীর সব জায়গাতেই সংস্কার হয়। এখানেও হওয়া উচিৎ।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এসএস/এমওআর

আপনার মন্তব্য

Developed By    IT Lab Solutions Ltd.

Helpline - +88 018 4248 5222